avatar
ILMAN NAFIYA
@ilmannafiyaofficial
09.07.2025 16:42
عَسَىٰۤ أَن یَبۡعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحۡمُودًا
আশা করা যায়, আপনার প্রতিপালক আপনাকে ‘মাকামে মাহমুদ’-এ পৌঁছাবেন (ইসরা ৭৯)।

১. কর্মের মাধ্যমে কর্মী সম্মানিত হয়। কর্ম ভাল হলে, কর্মীও ভাল। আল্লাহর কাছে আজান অত্যন্ত সম্মানিত আমল। মুয়াজ্জিন আজান দিলেও আমরা এই পাঁচটি সুন্নত আদায়ের মাধ্যমে মুয়াজ্জিনের মতো আল্লাহর প্রিয় বান্দায় পরিণত হতে পারি। কেয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনের বিশেষ সম্মান হবে। নবীজি সা. বলেছেন,
الْمُؤَذِّنُونَ أطْوَلُ النّاسِ أعْناقًا يَومَ القِيامَةِ
কেয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনের মাথা সবার উঁচুতে থাকবে। মুয়াজ্জিনের গলা সবার চেয়ে লম্বা হবে (মুয়াবিয়া রা.। মুসলিম ৩৮৭)।

ক. লম্বা গলার একটি অর্থ এই হতে পারে, তারা নিজকর্মের কারণে আল্লাহর রহমতের প্রতি বেশি আশাবাদি থাকবে। রহমত লাভের আশায় গলা উঁচু করে থাকবে। তারা আল্লাহর রহমত লাভের ব্যাপারে নিশ্চিত থাকবে।

খ. কেয়ামতের দিন অনেকে ঘামের সাগরে সাঁতরাতে থাকবে। মুয়াজ্জিনগন ঘাম থেকে মুখ বাঁচাতে গলা উঁচু করে থাকবে। আল্লাহ তা‘আলাই তাদের গলা উঁচু করে দেবেন।

গ. আরবী ভাষায় লম্বা গলার অধিকারী বলে ‘নেতা’ বোঝায়। মুয়াজ্জিনগন কেয়ামতের দিন নেতার সম্মান ভোগ করবেন।

হাদীসের অর্থ যাই হোক, কেয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনগন বিশেষ সুবিধা ও সম্মান ভোগ করবেন। এমনটাই নবীজি আমাদের আশ্বাস দিয়ে গেছেন।

২: মুয়াজ্জিন নামাজের প্রতি মানুষকে আহ্বান করে। নামাজ ইসলামের অন্যতম রোকন। নামাজের গুরুত্বের কারণে আজানের গুরুত্বও বেড়ে যায়। পাশাপাশি মুয়াজ্জিনেরও মর্যাদা বেড়ে যায়। নবীজি সা. বলেছেন,
المؤذِّنُ يُغفَرُ لَهُ مدى صَوتِهِ ويشهَدُ لَهُ كلُّ رَطبٍ ويابسٍ
মুআজ্জিনের আযানের ধ্বনি যতদূর পৌছাবে তাকে ততদুর ক্ষমা করা হবে। কিয়ামতের দিন সমস্ত প্রাণী ও জড় বস্তু তার মুয়াজ্জিনের সপক্ষে সাক্ষ্য দেবে (আবূ হুরায়রা রা.। আবূ দাউদ ৫১৫)।

৩. নবীজি আজান ও মুয়াজ্জিন সম্পর্কে অনেক উৎসাহব্যঞ্জক কথা বলে গেছেন। আজান দেয়াকে নানাভাবে গৌরবান্বিত করে গেছেন। নবীজি বলেছেন,
مَنْ أذَّنَ ثنتا عشْرَةَ سنةٍ وجبَتْ لَهُ الجنةُ، وكُتِبَ لَهُ بتأذينِهِ فِي كُلِّ يَومٍ ستونَ حسنَةً، وبإقامَتِهِ ثلاثونَ حسنةً
যে ব্যক্তি বারো বছর আজান দেবে, তার জন্য জান্নাত আবশ্যক হয়ে যাবে। প্রতিদিন আজানের জন্য ষাটটি নেকি, একামতের জন্য ত্রিশটি নেকি লেখা হবে (আবদুল্লাহ বিন উমার রা.। ইবনে মাজাহ ৭২৮)।

ক. হাদীসের প্রথমাংশে প্রত্যেক নামাজে বা প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে আজান দেয়ার কথা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, আমি যদি হাদীসে বর্ণিত ফজীলত লাভের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন একবার বা সপ্তাহে একবার বা নির্দিষ্ট বিরতিতে সময় সুযোগ মতো নিয়মিত বারো বছর আজান দিয়ে যাই, ইন শা আল্লাহ ফজীলত লাভ করতে পারব।

খ. একামতের চেয়ে আজানে সওয়ার বেশি। একামত হয় উপস্থিত মুসল্লীর জন্য, আজান হয় পুরো এলাকাবাসীর জন্য। একামতের চেয়ে আজানে পরিশ্রম বেশি। উঁচু জায়গায় উঠতে হয়। গলা উঁচু করতে হয়। আগে আগে মসজিদে যেতে হয়। ফজরে আগে উঠতে হয়। আজান-একামতে মূলত তাওহীদ প্রকাশ করা হয়। ইসলামের মৌলিক আকীদা ঘোষণা করা হয়। আজানের মাধ্যমে ইসলামের বাণী চারদিকে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

৪. আমরা সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত। আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করার জন্য, আল্লাহ তাআলা নবীজির মাধ্যমে অগনিত সুযোগসুবিধা দিয়ে রেখেছেন। অল্প মেহনতে বেশি সওয়াব লাভের সুযোগ করে দিয়েছেন। নবীজি বলেছেন,
لو يعلمُ النّاسُ ما في النِّداءِ والصَّفِّ الأوَّلِ ثمَّ لم يجِدوا إلّا أن يستَهِموا عليهِ لاستَهموا
আযানে ও প্রথম কাতারে কী ফজীলত আছে, তা যদি লোকেরা জানত, লটারির মাধ্যমে বাছাই ব্যতীত এ সুযোগ লাভ করা যদি সম্ভব না হত, তাহলে অবশ্যই তারা লটারির মাধ্যমে ফয়সালা করত (আবূ হুরায়রা রা.। বুখারী ৬১৫)।

৫. আল্লাহ তাআলা আমাদের কাজ দেখেন। আমাদের আচরণ প্রত্যক্ষ করেন। আমাদের সদাচারে রাব্বে কারীম খুশি হন। বেজার হন। বিস্মিত হন। নবীজি বলে গেছেন,
يعجَبُ ربُّكَ من راعي غنمٍ، في رأسِ شظيَّةِ الجبلِ يؤذِّنُ بالصَّلاةِ ويصلِّي فيقولُ اللَّهُ عزَّ وجلَّ انظروا إلى عبدي هذا يؤذِّنُ ويقيمُ الصَّلاةَ يخافُ منِّي قد غَفرتُ لعَبدي، وأدخلتُهُ الجنَّةَ
তোমার রব সে ব্যক্তির উপর খুশি হন, যে পাহাড়ের উঁচু শৃঙ্গে বকরী চরায় এবং সালাতের সময় হলে আযান দিয়ে সলাত আদায় করে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তোমরা আমার এ বান্দাকে দেখ, সে আযান দিচ্ছে এবং সালাত কায়েম করছে ও আমাকে ভয় করছে। আমি আমার এ বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালাম (উকবা বিন আমের রা.। নাসাঈ ৬৬৫)।

ক. নির্জন স্থানে আজান দিলেও আল্লাহ তাআলা খুশি হন। তাঁর প্রতি বান্দার এমন নিখাদ আনুগত্যে বিস্মিত হন। ভীষণ খুশি হয়ে বান্দাকে মাফ করে দেন। কোনও কারণে মসজিদে যেতে না পারলে, লোকালয় থেকে দূরে কোথাও বেড়াতে গেলে, আজান দিয়ে নামাজ পড়ার চেষ্টা করব। অপূর্ব কিছু সুন্নত আদায় হবে।
3
5 815

Обсуждение 0

Обсуждение не доступно в веб-версии. Чтобы написать комментарий, перейдите в приложение Telegram.

Обсудить в Telegram

ILMAN NAFIYA

10.8K
রাসূল (ﷺ) বলেছেন, "আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও তা পৌঁছিয়ে দাও।" [বুখারি ৩৪৬১]
আল্লাহ তা'আলা বলেন - তার কথার চেয়ে উত্তম কার কথা হতে পারে যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করে। (সুরা হা মিম সাজদাহ : ৩৩)
Открыть в Telegram