ILMAN NAFIYA
@ilmannafiyaofficial
একটি সুন্নাহকে বাঁচাবো বলে
৩।আযানের সুন্নত ফজীলত
.
আযান দেয়া অনেক বড় ফযীলতপূর্ণ সুন্নত। এই সুন্নত শুধু মুয়াজ্জিনের জন্য নয়, সবাই এই সুন্নাত পালনের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারি। আযানের ধ্বনি কানে এলে, প্রত্যেক মুসলমানের জন্যে পাঁচটি আমল করার সুযোগ তৈরী হয়।
প্রথম সুন্নাহ: আযানের উত্তর দেয়া।
নবিজী (সা.) বলেছেন:
إذا سَمِعْتُمُ النِّداءَ، فَقُولوا مِثْلَ ما يقولُ المُؤَذِّنُ
তোমরা যখন আযান শুনবে, মুয়াযযিন যা বলে, সাথে সাথে তোমরাও তা বলো (আবু সাঈদ খুদরী রা.। (বুখারী ৬১১)
তবে হাইয়া আলাস-সালাহ ও হাইয়া আলাল ফালাহ-এর উত্তরে ‘লা হাওলা ওয়ালা কুউয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলতে হবে। মুয়াবিয়া রা. হতে বর্ণিত,
لَمّا قالَ: حَيَّ على الصَّلاةِ، قالَ: لا حَوْلَ ولا قُوَّةَ إلّا باللَّهِ، وقالَ: هَكَذا سَمِعْنا نَبِيَّكُمْ ﷺ يقولُ
মুয়াজ্জিন যখন হাইয়া আলাস সলাহ বললেন, মুয়াবিয়া রা বললেন, লা হাওলা ওয়ালা কুউয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। এরপর মুয়াবিয়া রা. বললেন, এভাবেই তোমাদের নবীকে বলতে শুনেছি (৬১৩)।
দ্বিতীয় সুন্নত: আযান শেষ হলে, নবিজীর (সা.) ওপর দুরূদ পাঠ করাও সুন্নাত। নবিজী (সা.) বলেছেন,
إذا سمعتُمُ المؤذِّنَ فقولوا مثلَ ما يقولُ، ثمَّ صلُّوا عليَّ، فإنَّهُ من صلّى عليَّ صلاةً صلّى اللَّهُ عليْهِ بِها عشرًا
আজান শুনলে, মুয়াজ্জিন যা বলে তোমরাও তা বলবে। মুয়াজ্জিন আজান শেষ করলে, তোমরা আমার ওপর দুরূদ পাঠ করো। কেননা যে আমার ওপর একবার দুরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তা‘আলা তার ওপর দশবার দুরূদ পাঠ করেন।
তৃতীয় সুন্নত: নবিজীর (সা.) জন্যে উসীলা চাওয়া। তিনি বলেছেন:
ثمَّ سلوا ليَ الوسيلةَ فإنَّها منزلةٌ لا تنبغي إلّا لعبدٍ من عبادِ اللَّهِ وأرجو أن أَكونَ أنا هو، ومن سألَ ليَ الوسيلةَ حلَّت عليْهِ الشَّفاعةُ
অতঃপর তোমরা আমার জন্যে আল্লাহর কাছে উসীলা প্রার্থনা করো। কেননা তা জান্নাতের একটি মনযিল। সেই মনযিলে শুধুমাত্র আল্লাহর এক নির্দিষ্ট বান্দাই যেতে পারবে। আর আশা করি, আমিই সেই বান্দা। যে আমার জন্যে উসীলা চাইবে, তার জন্যে সুপারিশ করা আমার জন্যে জরুরি হয়ে পড়বে (আবদুল্লাহ বিন আমর রা.। (মুসলিম ৩৮৪)
চতুর্থ সুন্নত: কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করা। আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি আমাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করা। নবিজী (সা.) বলেছেন:
مَن قالَ حِينَ يَسْمَعُ المُؤَذِّنَ أشْهَدُ أنْ لا إلَهَ إلّا اللَّهُ وحْدَهُ لا شَرِيكَ له، وأنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ ورَسولُهُ، رَضِيتُ باللَّهِ رَبًّا وبِمُحَمَّدٍ رَسولًا، وبالإسْلامِ دِينًا، غُفِرَ له ذَنْبُه
যে আযান শুনে বলবে: ‘আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। রাদীতু বিল্লাহি রাব্বাওঁ ওয়া বিমুহাম্মাদিন রাসূলান ওয়া বিলইসলামি দীনান’ তার গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে (সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস রা.। মুসলিম ৩৮৬)।
দোয়াটির অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোনও ইলাহ-উপাস্য নেই। আল্লাহর কোনও শরীক নেই। মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আমি আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে নিয়ে সন্তুষ্ট। মুহাম্মাদকে রাসূল মেনে সন্তুষ্ট। ইসলামকে দ্বীন মেনে পরিতুষ্ট।
পঞ্চম সুন্নত: আমরা ইচ্ছেমতো দু‘আ করবো। আল্লাহ চাহেন তো এই দু‘আ কবুল হবে। এক লোক বললো:
أن رجلًا قال: يا رسولَ اللهِ، إن المؤذنين يَفْضِلوننا؟ فقال رسولُ اللهِ ﷺ: قلْ كما يقولون، فإذا انتهيتَ فَسَلْ تُعْطَه
ইয়া রাসুলাল্লাহ! মুয়াজ্জিনগন সওয়াব নিয়ে আমাদের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন!
আল্লাহর রাসূল বললেন, তারা যা বলে, তুমিও তাই বলো। যখন সবকিছু বলা শেষ করবে, আল্লাহর কাছে মন খুলে দোয়া করো, তোমাকে দিয়ে দেয়া হবে (আবদুল্লাহ বিন আমর রা. আবূ দাউদ ৫২৪)।
ক. হাদীসে ইচ্ছেমতো দোয়ার কথা বলা হয়েছে। আমি যে দোয়াই করব, রাব্বে কারীম কবুল করে নিবেন। এছাড়া নবীজি নিজেই একটি দোয়া শিখিয়ে গেছেন। এই দোয়ায় নবীজির জন্য উসীলাও চাওয়া হয়েছে,
مَن قالَ حِينَ يَسْمَعُ النِّداءَ: اللَّهُمَّ رَبَّ هذِه الدَّعْوَةِ التّامَّةِ، والصَّلاةِ القائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الوَسِيلَةَ والفَضِيلَةَ، وابْعَثْهُ مَقامًا مَحْمُودًا الذي وعَدْتَهُ، إنك لا تخلفُ الميعادَ حَلَّتْ له شَفاعَتي يَومَ القِيامَةِ
আজান শুনে যে বলবে-ইয়া আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও অনুষ্ঠিতব্য সলাতের রব, মুহাম্মাদ সা-কে দান করুন ওসীলা ও ফজীলত । তাঁকে মাকামে মাহমুদ-প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করুন। যার ওয়াদা আপনি তাকে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না । তার জন্য আমার শাফাআত আবশ্যক হয়ে যাবে (জাবের বিন আবদুল্লাহ রা.। বুখারী ৬১৪)।
খ. কুরআন কারীমেও নবীজির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে মাকামে মাহমুদ-এর আশ্বাস আছে। কুরআন কারীমের প্রতিশ্রুতিই আজানের দোয়ায় প্রতিফলিত হয়েছে। আমি নবীজির জন্য দোয়া করার মাধ্যমে আল্লাহর ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটাচ্ছি,
৩।আযানের সুন্নত ফজীলত
.
আযান দেয়া অনেক বড় ফযীলতপূর্ণ সুন্নত। এই সুন্নত শুধু মুয়াজ্জিনের জন্য নয়, সবাই এই সুন্নাত পালনের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারি। আযানের ধ্বনি কানে এলে, প্রত্যেক মুসলমানের জন্যে পাঁচটি আমল করার সুযোগ তৈরী হয়।
প্রথম সুন্নাহ: আযানের উত্তর দেয়া।
নবিজী (সা.) বলেছেন:
إذا سَمِعْتُمُ النِّداءَ، فَقُولوا مِثْلَ ما يقولُ المُؤَذِّنُ
তোমরা যখন আযান শুনবে, মুয়াযযিন যা বলে, সাথে সাথে তোমরাও তা বলো (আবু সাঈদ খুদরী রা.। (বুখারী ৬১১)
তবে হাইয়া আলাস-সালাহ ও হাইয়া আলাল ফালাহ-এর উত্তরে ‘লা হাওলা ওয়ালা কুউয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলতে হবে। মুয়াবিয়া রা. হতে বর্ণিত,
لَمّا قالَ: حَيَّ على الصَّلاةِ، قالَ: لا حَوْلَ ولا قُوَّةَ إلّا باللَّهِ، وقالَ: هَكَذا سَمِعْنا نَبِيَّكُمْ ﷺ يقولُ
মুয়াজ্জিন যখন হাইয়া আলাস সলাহ বললেন, মুয়াবিয়া রা বললেন, লা হাওলা ওয়ালা কুউয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। এরপর মুয়াবিয়া রা. বললেন, এভাবেই তোমাদের নবীকে বলতে শুনেছি (৬১৩)।
দ্বিতীয় সুন্নত: আযান শেষ হলে, নবিজীর (সা.) ওপর দুরূদ পাঠ করাও সুন্নাত। নবিজী (সা.) বলেছেন,
إذا سمعتُمُ المؤذِّنَ فقولوا مثلَ ما يقولُ، ثمَّ صلُّوا عليَّ، فإنَّهُ من صلّى عليَّ صلاةً صلّى اللَّهُ عليْهِ بِها عشرًا
আজান শুনলে, মুয়াজ্জিন যা বলে তোমরাও তা বলবে। মুয়াজ্জিন আজান শেষ করলে, তোমরা আমার ওপর দুরূদ পাঠ করো। কেননা যে আমার ওপর একবার দুরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তা‘আলা তার ওপর দশবার দুরূদ পাঠ করেন।
তৃতীয় সুন্নত: নবিজীর (সা.) জন্যে উসীলা চাওয়া। তিনি বলেছেন:
ثمَّ سلوا ليَ الوسيلةَ فإنَّها منزلةٌ لا تنبغي إلّا لعبدٍ من عبادِ اللَّهِ وأرجو أن أَكونَ أنا هو، ومن سألَ ليَ الوسيلةَ حلَّت عليْهِ الشَّفاعةُ
অতঃপর তোমরা আমার জন্যে আল্লাহর কাছে উসীলা প্রার্থনা করো। কেননা তা জান্নাতের একটি মনযিল। সেই মনযিলে শুধুমাত্র আল্লাহর এক নির্দিষ্ট বান্দাই যেতে পারবে। আর আশা করি, আমিই সেই বান্দা। যে আমার জন্যে উসীলা চাইবে, তার জন্যে সুপারিশ করা আমার জন্যে জরুরি হয়ে পড়বে (আবদুল্লাহ বিন আমর রা.। (মুসলিম ৩৮৪)
চতুর্থ সুন্নত: কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করা। আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি আমাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করা। নবিজী (সা.) বলেছেন:
مَن قالَ حِينَ يَسْمَعُ المُؤَذِّنَ أشْهَدُ أنْ لا إلَهَ إلّا اللَّهُ وحْدَهُ لا شَرِيكَ له، وأنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ ورَسولُهُ، رَضِيتُ باللَّهِ رَبًّا وبِمُحَمَّدٍ رَسولًا، وبالإسْلامِ دِينًا، غُفِرَ له ذَنْبُه
যে আযান শুনে বলবে: ‘আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। রাদীতু বিল্লাহি রাব্বাওঁ ওয়া বিমুহাম্মাদিন রাসূলান ওয়া বিলইসলামি দীনান’ তার গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে (সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস রা.। মুসলিম ৩৮৬)।
দোয়াটির অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোনও ইলাহ-উপাস্য নেই। আল্লাহর কোনও শরীক নেই। মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আমি আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে নিয়ে সন্তুষ্ট। মুহাম্মাদকে রাসূল মেনে সন্তুষ্ট। ইসলামকে দ্বীন মেনে পরিতুষ্ট।
পঞ্চম সুন্নত: আমরা ইচ্ছেমতো দু‘আ করবো। আল্লাহ চাহেন তো এই দু‘আ কবুল হবে। এক লোক বললো:
أن رجلًا قال: يا رسولَ اللهِ، إن المؤذنين يَفْضِلوننا؟ فقال رسولُ اللهِ ﷺ: قلْ كما يقولون، فإذا انتهيتَ فَسَلْ تُعْطَه
ইয়া রাসুলাল্লাহ! মুয়াজ্জিনগন সওয়াব নিয়ে আমাদের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন!
আল্লাহর রাসূল বললেন, তারা যা বলে, তুমিও তাই বলো। যখন সবকিছু বলা শেষ করবে, আল্লাহর কাছে মন খুলে দোয়া করো, তোমাকে দিয়ে দেয়া হবে (আবদুল্লাহ বিন আমর রা. আবূ দাউদ ৫২৪)।
ক. হাদীসে ইচ্ছেমতো দোয়ার কথা বলা হয়েছে। আমি যে দোয়াই করব, রাব্বে কারীম কবুল করে নিবেন। এছাড়া নবীজি নিজেই একটি দোয়া শিখিয়ে গেছেন। এই দোয়ায় নবীজির জন্য উসীলাও চাওয়া হয়েছে,
مَن قالَ حِينَ يَسْمَعُ النِّداءَ: اللَّهُمَّ رَبَّ هذِه الدَّعْوَةِ التّامَّةِ، والصَّلاةِ القائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الوَسِيلَةَ والفَضِيلَةَ، وابْعَثْهُ مَقامًا مَحْمُودًا الذي وعَدْتَهُ، إنك لا تخلفُ الميعادَ حَلَّتْ له شَفاعَتي يَومَ القِيامَةِ
আজান শুনে যে বলবে-ইয়া আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও অনুষ্ঠিতব্য সলাতের রব, মুহাম্মাদ সা-কে দান করুন ওসীলা ও ফজীলত । তাঁকে মাকামে মাহমুদ-প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করুন। যার ওয়াদা আপনি তাকে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না । তার জন্য আমার শাফাআত আবশ্যক হয়ে যাবে (জাবের বিন আবদুল্লাহ রা.। বুখারী ৬১৪)।
খ. কুরআন কারীমেও নবীজির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে মাকামে মাহমুদ-এর আশ্বাস আছে। কুরআন কারীমের প্রতিশ্রুতিই আজানের দোয়ায় প্রতিফলিত হয়েছে। আমি নবীজির জন্য দোয়া করার মাধ্যমে আল্লাহর ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটাচ্ছি,
❤ 12
7 1.1K
Обсуждение 0
Обсуждение не доступно в веб-версии. Чтобы написать комментарий, перейдите в приложение Telegram.
Обсудить в Telegram