একটি সুন্নাহকে বাঁচাবো বলে
২. অন্নদান
.
১। নবীজির পরিচালনায় মক্কা ও মদীনায় ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত এক মাদরাসা। ছাত্র সাহাবায়ে কেরাম। ওস্তাদ স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা। আল্লাহর পাঠানো শিক্ষা সাহাবায়ে কেরামের কাছে পৌঁছে দিচ্ছিলেন পেয়ারা নবীজি সা.। সাহাবীদের কিছু জানার প্রয়োজন হল, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে প্রশ্ন করলেন, নবীজি সাথে সাথে ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন। সুখের কথা হল, আমরা চৌদ্দশ বছর পরে এসেও এই চমৎকার মাদরাসার তালিবে ইলম হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। আলহামদুলিল্লাহ। একলোক এসে রাসূলুল্লাহকে প্রশ্ন করলেন,
أَيُّ الإِسْلاَمِ خَيْرٌ؟ قَالَ: تُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَتَقْرَأُ السَّلاَمَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ
ইসলামের কোন আমলগুলো সবচেয়ে বেশি উত্তম?
তুমি আহার দান করবে। চিনে হোক না চিনে হোক, সালাম দিবে (আবদুল্লাহ ইবনে আমর। বুখারী ১২)।
২। ইসলামের মূলস্তম্ভের পর সবচেয়ে বেশি ফযীলতপূর্ণ আমল দু’টি। পরিবারের প্রয়োজন পুরো করার পর, উদ্বৃত্ত খাবার থাকলে অন্যকে আহার করাবে। যেমন: আশেপাশের গরীবকে, বাড়িতে আসা ভিক্ষুককে, মহল্লায় পাহারা দেয়া প্রহরীকে, বাড়ির ঠিকা কাজের লোককে। বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশি, সহকর্মীও এর আওতাভুক্ত হতে পারে।
৩। হাদীসে গরীব মানুষকেই খাওয়াতে হবে এমনটা বলা হয়নি। বড়লোককে খাওয়ানোও সুন্নাত। এই খাবার যাকাত ও সাদাকাতুল ফিতরের অন্তর্ভুক্ত নয়। পারিবারিক দাওয়াত, হাদিয়াসুলভ আয়োজন, ওলীমা, যেয়াফত, সবই এই খাবারের আওতাভুক্ত। আমি সুন্নাহ পালনের নিয়তে আয়োজন করলে, আল্লাহর পক্ষ থেকে সওয়াবের ভাগীদার হব। আয়োজনটা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে।
৪। হাদীসের মূল সুর হলো, পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করা। দুর্ভিক্ষের সময়, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সময়, বন্যার সময়, দুর্যোগের সময় আমি এই সুন্নাহ পালনে সক্রিয় হতে পারি। এছাড়া আরও একটি বিশেষ ক্ষেত্রেও আমি খাবার হাদিয়ার সুন্নাহ পালন করতে পারি। মুতার যুদ্ধের শহীদ হলেন জা‘ফর বিন আবি তালিব। নবীজি চাচাত ভাইয়ের বিধবা ও এতীম শিশুদের সান্ত¡না দিতে গেলেন। সবাইকে বললেন,
اصنَعوا لأهْلِ جعفرٍ طعامًا، فإنَّهُ قد جاءَهُم ما يشغلُهُمْ
তোমরা জাফরপরিবারের জন্য খাবার প্রস্তুত কর। কারণ তারা আগত সংবাদে শোকাভিভূত হয়ে পড়েছে (আবদুল্লাহ বিন জা‘ফর রা.। তিরমিযী ৯৯৮)।
৫। মৃতব্যক্তির পরিবারকে সান্ত¡না দিতে যাওয়া সুন্নত। শোকসন্তপ্ত পরিবারকে খাবার পাঠানোও সুন্নাত। খাবারদান ও সালাম প্রদানের মাধ্যমে পরস্পর মিল-মহব্বত সৃষ্টি হয়। উভয় সুন্নাতের মাঝে একটা অদৃশ্য যোগসূত্র আছে। উভয় আমলই একধরনের ইহসান বা অপরের প্রতি সদাচার। খাবার খাইয়ে আমি কর্ম দিয়ে সদাচার করলাম। সালাম দিয়ে আমি কথা দিয়ে সদাচার করলাম। কুরআন আমাদের মুহসিন হতে উৎসাহিত করে। নবীজিও। ইহসান মানে অনুগ্রহ করা। দয়া করা। সদাচার করা। একটি কাজকে যথাসম্ভব নিখুঁত করে সম্পন্ন করা। এ-দু’টি আমলের মাধ্যমে মুসলমানদের পরস্পরের মাঝে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির সুবাতাস বইবে।
৬: অন্যকে খাওয়াতে হলে, দামী খাবার দিয়ে আয়োজন করতে হবে, এমনটা জরুরী নয়। গরীব আত্মীয়কে এককেজি চাল কিনে দিলাম। এতিম কোনও তালিবে ইলমকে একপ্যাকেট বিস্কুট কিনে দিলাম। এতিমখানায় গিয়ে, সবাইকে মিষ্টি দিয়ে এলাম। স্কুলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বাচ্চাদেরকে পকেটে থাকা চকলেট বিলিয়ে দিলাম। চিন্তা করলে এভাবে আরও নানাভাবে হাদীসের উপর আমল করতে পারি। সুন্নত পালন করার উদ্দেশ্যে, আল্লাহকে রাজিখুশি করার জন্য সচেতন নিয়তে কখনো আমলটা করেছি কখনো? মাওলায়ে কারীম তাওফীকদাতা। সবাইকে তাওফীক দান করুন। আমীন।
.
মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহ হাফি.
Обсуждение 2
Обсуждение не доступно в веб-версии. Чтобы написать комментарий, перейдите в приложение Telegram.
Обсудить в Telegram