avatar
ILMAN NAFIYA
@ilmannafiyaofficial
08.07.2025 01:10
একটি সুন্নাহকে বাঁচাবো বলে
১. তাহলীল

১: যিকরুল্লাহ মানে আল্লাহর স্মরণ, আল্লাহর ধ্যান। আল্লাহ তাআলার আলোচনা। কুরআনের পাতায় পাতায় আল্লাহর যিকিরের প্রতি উৎসাহ দেয়া হয়েছে। কখনো প্রত্যক্ষভাবে, কখনো পরোক্ষভাবে। নবীজির হাদীস শরীফেও জিকিরের প্রতি অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আল্লাহর যিকিরে আছে অনেক উপকার। আমাদের সৃষ্টি করাই হয়েছে আল্লাহর ইবাদত করার জন্য। প্রতিটি ইবাদতও একপ্রকার যিকির। যিকির মানে শুধু ঠোঁট নেড়ে বিড়বিড় করে, মনে মনে, জোরে জোরে নির্দিষ্ট কিছু শব্দ বা বাক্য আওড়ানো নয়, যিকিরের পরিধি আরও ব্যাপক। আল্লাহকে রাজিখুশি করার জন্য যাই করি, সেটাই যিকিরের বৃহত্তর পরিধির আওতায় আসতে পারে।

২. রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তার উম্মতকে যিকিরের প্রতি অনেক বেশি উদ্বুদ্ধ করে গেছেন। যিকিরের নানা উপায় বাতলে গেছেন। নবীজি সবসময় যিকির করতেন। নবীজির একটি মুহূর্তও যিকিরমুক্ত থাকত না। এমনকি ঘুমিয়ে থাকলেও, তার কলব যিকিরে মশগুল থাকত। নবীগন ঘুমিয়ে থাকলেও, তাদের কলব জেগে থাকে। যিকিরের একটি সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি হল তাহলীল পাঠ করা। নবীজি বলেছেন,

مَنْ قَالَ: لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ، كَانَتْ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ، وَكُتِبَتْ لَهُ مِائَةُ حَسَنَةٍ، وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ، وَكَانَتْ لَهُ حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ يَوْمَهُ ذَلِكَ حَتَّى يُمْسِيَ، وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ، إِلَّا أَحَدٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ
যে ব্যক্তি দিনে একশ বার পড়বে,
لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, লাহুল-মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর’। তার জন্যে আছে,
ক: দশটা গোলাম আযাদ করার সওয়াব।
খ: আমলনামায় একশটি নেকি।
গ: আমলনামা হতে একশটা গুনাহ মাফ।
ঘ: সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা।
ঙ: সেদিন তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ আমলদার আর কেউ থাকবে না। তবে অন্য কেউ যদি এই আমলের পাশাপাশি আরও অন্য আমল করে, তার কথা আলাদা। (বুখারী ৬০৪০)

৩. এই কালিমায়ে তাওহীদটি পাঠ করতে পারা বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। অতীব মর্যাদাবান এক সুন্নাত। অল্পকটা কথা অথচ কী অপরিমেয় প্রতিদান। কথা কল্পনাও করা যায় না। আমলনামায় সওয়াব বৃদ্ধির পাশাপাশি, কালিমায়ে তাওহীদটা পড়ার মাধ্যমে, আমার ঈমান আরও পোক্ত হবে। আমার আত্মিক উন্নতির মাত্রা আরও বেড়ে যাবে। দু‘আটা বুঝে বুঝে পড়লে আমি মানসিকভাবে আরও বলীয়ান হতে পারব। আল্লাহ তা‘আলাই আমার হিম্মত আরও বাড়িয়ে দেবেন। আরেকটা হাদীসে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে নবীজি বলেছেন,
وَخَيْرُ مَا قُلْتُ أَنَا وَالنَّبِيُّونَ مِنْ قَبْلِي: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আমি (নবিজী) ও অন্য নবীগণ যেসব কথা বলেছি, তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ কথা হলো উপরোক্ত দু‘আ (তিরমিযী ৩৫৮৫)।

৪. এই সুন্নাত আদায় করতে বড়জোর দশ মিনিট সময় লাগবে। কিন্তু তার প্রাপ্তিটা অসাধারণ। সকালে হাতের কাজ করতে করতে, প্রাতঃভ্রমণে হাঁটতে হাঁটতে দোয়াটা পড়ে নিতে পারি। নিজের স্বার্থেই পড়তে পারি। পড়লে আমারই লাভ। শুধু আখেরাতের লাভ বললে, অনেকসময় মনে আগ্রহ জাগে না, এই দোয়ায় দুনিয়ার লাভও আছে। পথেঘাটে কত বিপদাপদ, আল্লাহ হেফাযত করবেন। ইন শা আল্লাহ। রাব্বে কারীম আমাদেরকে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
.
মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহ হাফি
17
👍 2
1 7 1.4K

Обсуждение 1

Обсуждение не доступно в веб-версии. Чтобы написать комментарий, перейдите в приложение Telegram.

Обсудить в Telegram

ILMAN NAFIYA

10.8K
রাসূল (ﷺ) বলেছেন, "আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও তা পৌঁছিয়ে দাও।" [বুখারি ৩৪৬১]
আল্লাহ তা'আলা বলেন - তার কথার চেয়ে উত্তম কার কথা হতে পারে যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করে। (সুরা হা মিম সাজদাহ : ৩৩)
Открыть в Telegram